নতুন পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়ল?

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, জান্নাতুল তানভী
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
- পড়ার সময়: ৬ মিনিট
বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেল অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সেখানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১০০ শতাংশ থেকে শুরু সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়িয়ে দুই অর্থবছরে তিন ধাপে এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সরকারি চাকরিতে আগের মতোই ২০টি গ্রেড থাকছে। সর্বনিম্ন স্তর ২০তম গ্রেডের মূল বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ এই গ্রেডে ১৪২ শতাংশ বেতন বাড়ানো হয়েছে।
এই গ্রেড ধরা হয়েছে ২০,০০০-৪৮৪০০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ যিনি এই গ্রেডে সরকারি চাকরিতে যোগদান করবেন তার মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা। পরে তা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ ৪৮,৪০০ টাকা হতে পারে।
আর সরকারি চাকরির সর্বোচ্চ স্তর প্রথম গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা (সর্বোচ্চ নির্ধারিত) হয়েছে।
এই বেতন কাঠামোর সাথে মিল রেখে বিচার বিভাগের জন্য ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আলাদা বেতন কাঠামোর অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এই নবম পে-স্কেল অনুমোদন করা হয়। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরে পিআইডির সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি বলেন, "বাংলাদেশ সরকারের চাকরিতে ২০টা গ্রেড আছে। প্রথম গ্রেডে ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ১১তম গ্রেড পর্যন্ত একশো শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি হয়েছে।"
তিনি জানান, এবারই প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালু হতে যাচ্ছে। যার আওতায় মাসে তিন হাজার টাকা ভাতা দেয়া হবে।
এর আগে, পঞ্চম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীরা শুধু মোবাইল বিলের ভাতা পেতেন। তবে, এই পে-স্কেল অনুযায়ী, সকল গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই ভাতা পাবেন।
End of বিবিসি বাংলার অন্যান্য সংবাদ



নবম পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন ?
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বাংলাদেশে সর্বশেষ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে।
অর্থাৎ বর্তমান অষ্টম পে-স্কেলের একই কাঠামোতে ১১ বছর ধরে সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।
অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭শে জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। এই বছরের ২১শে জানুয়ারি ওই কমিশন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে।
বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ই জুনের বাজেট বক্তৃতায় পহেলা জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।
মূলত মূল্যস্ফীতি, বাজেটের ওপর চাপ কমানো, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনেতিক চাপ সামলানোর মধ্যে গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য আনতে সরকার এই নবম পে-স্কেল দুই বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং প্রায় নয় লাখ পেনশনভোগী রয়েছে। তাদের জন্য বছরে প্রায় এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল অপেক্ষার পর সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নবম পে-স্কেলটি অনুমোদন করেছে। এরপর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
এই পে-স্কেল অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের একজন সরকারি চাকরিজীবীর বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় গ্রেডে মূল বেতন এক লাখ ৩২ হাজার টাকা থেকে এক লাখ ৫৩ হাজার টাকা এবং তৃতীয় গ্রেডে এক লাখ ১৩ হাজার থেকে এক লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা বেতন হবে সরকারি চাকরিজীবীদের।
নবম পে-স্কেলে একজন সরকারি চাকরিজীবীর চতুর্থ গ্রেডের বেতন এক লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা।
পঞ্চম গ্রেডের একজন সরকারি চাকরিজীবীর মূল বেতন ৮৬ হাজার টাকা থেকে এক লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি জানান, সরকার দুই অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে তিন ধাপে বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
"জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ এর আওতায় পহেলা জুলাই ২০২৬ থেকে পহেলা জুলাই ২০২৭ এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং ভাতাসমূহ পহেলা জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর হবে। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ধাপভিত্তিক নিট পেনশন বৃদ্ধি কার্যকর হবে" বলেন মি. গণি।
এছাড়া নবম পে-স্কেলের ষষ্ঠ গ্রেডের মূল বেতন ৭১ হাজার টাকা থেকে ধাপে ধাপে বেড়ে এক লাখ ৩৪ হাজার টাকা হবে।
আর সপ্তম গ্রেডের একজন সরকারি চাকরিজীবীর বেতন হচ্ছে ৫৮ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা।
অষ্টম গ্রেডে মূল বেতন ৪৬ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ ১০ হাজার ৮০০ টাকা এবং নবম গ্রেডে ৪৪ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ পাঁচ হাজার ৯০০ টাকা হয়েছে।

ছবির উৎস, Pri Minister Office
ঢাকার একজন সরকারি চাকরিজীবী জানান, নির্দিষ্ট একটি গ্রেডের মূল বেতন থেকে প্রতি বছর ধাপে ধাপে বেতন বেড়ে বা ইনক্রিমেন্ট হয়ে ওই গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন পান একজন চাকরিজীবী। ওই গ্রেডে যত বছর পর্যন্ত তিনি চাকরি করবেন প্রতি বছর বেতন বেড়ে ওই গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন পাবেন।
দশম গ্রেডের মূল বেতন ৩২ হাজার টাকা থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা এবং ১১তম গ্রেডে ২৫ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে নবম পে-স্কেলে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি সংবাদ সম্মেলনে জানান, ১১ তম গ্রেড পর্যন্তই বেতন একশো শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তবে পরবর্তী গ্রেড থেকে ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবীদের।
"পরবর্তী গ্রেডে বেতন বেড়েছে ১২তম গ্রেডে ১১৫ শতাংশ, ১৩ গ্রেডে ১১৮ শতাংশ, ১৪তম গ্রেডে ১৩০ শতাংশ, ১৫ তম এবং ১৬ তম গ্রেডে ১৩৫ শতাংশ, ১৭ গ্রেডে ১৩৮ শতাংশ, ১৮ গ্রেডে ১৩৯ শতাংশ, ১৯ গ্রেডে ১৪১ শতাংশ এবং ২০ তম গ্রেডে ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে" বলেন মি. গণি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি জানান, "সরকার বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বল্প আয় বিবেচনায় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।"
নবম পে-স্কেলের ১২তম গ্রেডে বেতন ২৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা।
এছাড়া ১৩তম গ্রেডে ২৪ হাজার টাকা থেকে ৫৮ হাজার টাকা এবং ১৪তম গ্রেডে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা।
পনেরোতম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীর মূল বেতন ২২ হাজার ৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ২০০ টাকা এবং ১৬তম গ্রেডে ২১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫২ হাজার ৯০০ টাকা বেতন করা হয়েছে নবম পে-স্কেলে।
এই স্কেল অনুযায়ী, ১৭তম গ্রেডে মূল বেতন ২১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ৫১ হাজার ৯০০ টাকা এবং ১৮তম গ্রেডে ২১ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ৯০০ টাকা বেতন হবে এই গ্রেডের একজন সরকারি চাকরিজীবীর।
নবম পে-স্কেলে ১৯তম গ্রেডে একজন সরকারি চাকরিজীবীর মূল বেতন ২০ হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা।
আর সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন গ্রেড, ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা হয়েছে নবম পে-স্কেলে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি জানান, প্রায় দেড়শোর ওপরে পেনশনভোগী আছেন যারা আগে কেবল মূল বেতনই পেনশন পেতেন সেটিতেও সামঞ্জস্য আনা হচ্ছে।
"পেনশনধারীর জীবন-যাত্রার মান ও বৃদ্ধ বয়সের আর্থিক নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যহারে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিট পেনশন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। যারা মাসে নয় হাজার টাকা পেতেন তারা এখন মাসে ১৮ হাজার টাকা পাবেন," বলেন নাসিমুল গণি।
এছাড়াও যারা মাসিক নয় হাজার এক টাকা থেকে বিশ হাজার টাকা পেনশন পাচ্ছিলেন তারা এখন থেকে ৭৫ শতাংশ পেনশন বাড়িয়েছে সরকার।
"অর্থাৎ, বিশ হাজার এক টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আহরণকারীর ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ এবং ত্রিশ হাজার এক টাকা থেকে ৪০ হাজার এক টাকা পর্যন্ত আহরণকারীর ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকা বা তদুর্দ্ধ পেনশন আহরণকারীদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পেনশন বৃদ্ধি পাবে" বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
তবে, ২০৩০ সালে গিয়ে সবাই একই হারে এক গ্রেড এক পেনশন পদ্ধতিতে পেনশন পাবেন বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
একইসঙ্গে, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতনস্কেলও পহেলা জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। পাশাপাশি এই বেতন স্কেলের সাথে মিল রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আলাদা বেতন কাঠামোর অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
তিনি বলেন, "নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া নয় লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।"








